Monday, May 19, 2014

বিডিটুডে.নেট: সাঈদীর ইমতিহান, ইনসানিয়াত ও রিজ্জা প্রসঙ্গ!

বিডিটুডে.নেট: সাঈদীর ইমতিহান, ইনসানিয়াত ও রিজ্জা প্রসঙ্গ!



সাঈদীর ইমতিহান, ইনসানিয়াত ও রিজ্জা প্রসঙ্গ!

গোলাম মাওলা রনি 

আমি যখন তাকে প্রথম দেখি তখনো তার নামের সাথে আল্লামা উপাধি সংযুক্ত হয়নি। সেটা ছিল ১৯৭৬ সালের কথা। আমি কেবল তার সুরেলা কণ্ঠ ও দাড়ি-টুপির আকৃতির কথা মনে রাখতে পেরেছিলাম। এরপর তাকে দ্বিতীয়বার দেখি ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে। ব্যবসা উপলক্ষে আমি তখন চট্টগ্রামে ছিলাম বেশ কয়েক দিনের জন্য। সারা দিন প্রচণ্ড কাজ। কিন্তু সন্ধ্যে হলেই অখণ্ড অবসর। ওই শহরে আমার পরিচিত জন ছিল একেবারেই হাতেগোনা। দুই-এক দিন পর বিকেলে গেলাম পতেঙ্গা সৈকতেÑ তা-ও আর ভালো লাগছিল না। হোটেলে বসে থাকতে থাকতে যখন একেবারেই অধৈর্য্য হয়ে উঠলাম তখন দেখলাম অনেকগুলো লোক দলবেঁধে পাজামা-পাঞ্জাবি ও টুপি পরে মাহফিলে যাচ্ছে। আমিও তাদের সঙ্গী হলাম কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই। প্রায় ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর মাহফিলস্থলে পৌঁছলাম এবং ওয়ায়েজিনের কণ্ঠ শুনে বুঝলাম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বক্তব্য দিচ্ছেন। আমি ওয়াজ শুনছিলাম এবং হেঁটে হেঁটে প্যারেড ময়দানের চার পাশে ঘুরে ঘুরে লোকজনের সংখ্যা নিরূপণের চেষ্টা করছিলাম। কত হবেÑ কেউ বলে পাঁচ লাখ, কেউ বলে দশ লাখÑ কেউ কেউ আরো বেশি। এত বিশাল জনসমাবেশ আমি ইতঃপূর্বে যেমন দেখিনি তেমনি আজ অবধিও দেখিনি কেবল তাবলিগ জামাতের মহাসমাবেশ ছাড়া।

ওই দিনের পর থেকে আমি জনাব সাঈদীর একজন ভক্ত হয়ে গেলাম। চট্টগ্রামের মাহফিলে আমার দ্বিতীয়বার যাওয়ার সুযোগ হয়নি কিন্তু মতিঝিল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বিশাল মাঠের বার্ষিক মাহফিল নিয়মিত শুনেছি। কিন্তু আমার সুযোগ হয়নি তার সামনে দাঁড়িয়ে বা কাছে বসে দু’দণ্ড কথা বলার কিংবা একান্ত কাছ থেকে দেখবার। শেষমেশ সেই সুযোগটি এলো ২০০৪ সালে। আমার এক বন্ধু ফোন করে জানালেন যে সাঈদী সাহেব রাতে তার বাসায় দাওয়াত খাবেন। তিনি আর কাউকেই দাওয়াত দেননি কেবল আমাকে ছাড়া। আমি আগ্রহভরে সে রাতে বন্ধুর নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলাম। সাঈদী সাহেব এলেন এবং আমরা পরিচিত হলাম। তিনি যখন জানলেন যে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রার্থী তখন ভারী উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আগ্রহ নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালেন এবং মুচকি হেসে বললেনÑ আওয়ামী লীগে এত ভদ্রলোক আছেন তা আপনাকে এবং ফারুখ খানকে না দেখলে বোঝা যাবে না। আমি মূলত তার ওয়াজ মাহফিল নিয়েই কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবেগের আতিশয্যে পারিনি। কেবল জিজ্ঞাসা করেছিলামÑ শেখ হাসিনা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? তিনি বলেছিলেন, আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে। তিনি যদি জানতেনÑ তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাকে কিভাবে শ্রদ্ধা করে কেন করে এবং কখন করে তাহলে তার রাজনৈতিক দর্শন আরো মর্যাদা পেত।

এরপর আর আমার সাথে সাঈদী সাহেবের দেখাও হয়নি এবং কথাও হয়নি। উনি অবশ্য তার বাসায় বেড়াতে যাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেটাও হয়ে ওঠেনি ব্যস্ততার কারণে। কিন্তু প্রতি মুহূর্তেই আমি তার সাথে ছিলাম এবং এখনো আছিÑ হয়তো আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতেও থাকব। তার সাথে থাকার মূল ভিত্তিটি হলো ওয়ায়েজিন হিসেবে তার বক্তব্য, সুরেলা আওয়াজ, ুরধার যুক্তি। বর্ণাঢ্য উপস্থাপনা, সাবলীল ও সহজবোধ্য ভাষার প্রয়োগ এবং প্রচণ্ড মোহময়তার সুতীব্র চৌম্বক শক্তিতে লাখ লাখ মানুষকে মাহফিলের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আকৃষ্ট করে রাখার প্রবল ক্ষমতা। প্রথম জীবনে আমি দাদাকে নিয়ে তার মাহফিলে গিয়েছি। তারপর আব্বাকে নিয়েÑ সবশেষে গিয়েছি নিজের পুত্রসন্তানকে নিয়ে। যখন প্রথম গিয়েছিলাম তখন ছিলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। যখন সর্বশেষ গিয়েছিলাম তখন যৌবন পেরিয়ে প্রৌঢ়ত্বে ঢোকার ভয় মনের মধ্যে প্রবেশ করেছিলÑ এবং তখন আমার কথা আর বক্তব্য শোনার জন্যও হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতো। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলোÑ আমার প্রথম দর্শন ও শেষ দর্শনের মধ্যকার প্রায় ৩০টি বছরের ব্যবধানে একবারও জনাব সাঈদীর বক্তব্য পুরোনো, অ-আকর্ষণীয়, বিরক্তিকর কিংবা একঘেয়ে বলে মনে হয়নি। যুগ যেমন টেপ রেকর্ডার থেকে সিডি-ভিসিডি ও ডিভিডিতে রূপান্তরিত হয়ে ওয়েববেইজড হয়ে গেছে, তেমনি সাঈদী সাহেবও জমিনের মালিক আল্লাহর বাণী এবং তাঁর হাবিবের বাণীকে আধুনিক মানুষের মনের উপযোগী করে উপস্থাপন করেছেন। ফলে গত প্রায় ৪০টি বছর ধরে বাংলা ভাষাভাষী তাবৎ দুনিয়ার মুসলমান নরনারীর কাছে তিনি রূপান্তরিত হয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তি রূপে। মানুষের বুভুু আধ্যাত্মিকতার জগতে তিনি এক মুকুটহীন বাদশা এবং মনোজগতের আলোকিত স্বপ্নপুরুষ।

আমার ক্ষেত্রে কিন্তু জনাব সাঈদীর বিষয়টি এরূপ হওয়ার কথা ছিল না। কারণ শৈশব থেকেই আমি ধর্মকর্ম করার একজন রক্ষণশীল মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠছিলাম। কলেজজীবনে এসে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির একজন কট্টরপন্থী কর্মী হিসেবে ইসলামপন্থী দলগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করতাম না। এরপর আমি দেখা পাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতিদের। এদের দু’জন ইমামÑ খাজা আবু তাহের ও মাওলানা আব্দুল জলিলের পেছনে প্রায় দেড় যুগ ধরে জুমার নামাজ পড়েছি। এখানে উল্লেখ্য যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে এবং তারা জামাত-শিবিরকে খুবই ঘৃণা করে, মনে হয় অমুসলিমদের চাইতেও বেশি। এমন একটি পরিবেশে থেকে সাঈদীর গুণমুগ্ধ ভক্ত হওয়া খুবই জটিল ও কঠিন একটি বিষয়। প্রথমে মনে হতোÑ আমি বোধ হয় একা। পরে দেখলাম আওয়ামী লীগ করেন এমন লোক তো বটেই অনেক হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানরাও সাঈদী সাহেবের জন্য পাগল। অনেক হিন্দুর বাড়ি-গাড়িতে আমি জনাব সাঈদীর ওয়াজের ক্যাসেট কিংবা সিডি দেখেছি।

এই মুহূর্তে জনাব সাঈদী কারারুদ্ধ। তিনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত। আপিল আদালত হয়তো খুব তাড়াতাড়ি এবং যেকোনো সময় রায় দিয়ে দিতে পারে। কী রায় হয়েছে কিংবা কী রায় হবে তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। তবে মনোবেদনা তো অবশ্যই আছে। মনে প্রশ্ন জাগেÑ এমনটি কেন হলো। যে মানুষটি ৪০টি বছর ধরে সারা দুনিয়ার আনাচে কানাচে বাঙালিদের আস্তানায় গিয়ে কুরআন শুনিয়ে এলেন। তার কণ্ঠের মোহময় জাদুতে আকৃষ্ট হয়ে মানুষজন সুপথ পেল কিংবা যার যৌক্তিক আহ্বানে লাখ লাখ মানুষ দ্বীনের পথে পাবন্দ হলো তিনি আজ কেনই বা এত বড় মুছিবতে পড়লেন! আমরা তেমন কিছু জানি নাÑ আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। তবে সাঈদী-বিরোধীরা যেসব কুৎসা রটনা করছে তা এ দেশের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে না। সাধারণ মানুষের তো কোনো ক্ষমতাই নেই। তারা কেবল অন্তর থেকে কাউকে ঘৃণা করতে পারেন এবং আল্লাহর দরবারে ঘৃণিত ব্যক্তির জন্য শান্তি কামনা করতে পারেন। অন্য দিকে ভালোবাসার মানুষটির জন্য দোয়া করতে পারেন। সেই দিক বিবেচনায়Ñ জনাব সাঈদী এ দেশের লাখো-কোটি মানুষের মনের আকুতি মিশ্রিত দোয়া যে পাচ্ছেন তা আমি বলতে পারি নির্দ্বিধায়।

এবার আমি বলছিÑ ভিন্ন মতের, ভিন্ন ধারায় থেকেও কেন সাঈদীর অনুরক্ত হলাম। কারণ একটাইÑ আমার আত্মার খোরাক মেলে তার ওয়াজের মাধ্যমে। আজো আমি সময় পেলে ইউটিউবে গিয়ে যেমন কারি আবদুল বাসিত, শেখ মোহাম্মদ জিবরিল, শেখ মোহাম্মদ খলিল আল হুসাইরি, আবদুর রহমান সুদাইস, শেখ সুরিইয়াম, কারি সাদাকাত, মো: রিফাত, আল আফাসী প্রমুখের সুললিত কণ্ঠের কুরআন তেলাওয়াত শুনিÑ তেমনি জনাব দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজও শুনি। অবাক করার বিষয় হলোÑ সাঈদী সাহেবের ওয়াজের একেকটি ভিডিও ১৪-১৫ লাখ লোক পর্যন্ত দেখেছে। কোনো বাঙালি শিল্পী, কিংবা বক্তা কিংবা ওয়ায়েজিনের ভিডিও এত মানুষ আজ অবধি দেখেনি। আমি এসব ভিডিও বা অডিও কিপ শুনি এবং আত্মার প্রশান্তি অনুভব করি। আমি লক্ষ করেছি আমাদের দেশের বেশির ভাগ সাঈদীবিরোধী লোকজন না বুঝে এবং না জেনেই সাঈদীর সমালোচনা করেন। আবার উল্টোটাও আছেÑ কোনো রকম ভালোমন্দ বিচার-বিবেচনা না করেই অন্ধভাবে সাঈদী সাহেবকে সমর্থন করেন। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন রকম। আমি ব্যক্তি সাঈদী সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না বা জানার প্রয়োজনও মনে করিনি। কিন্তু পবিত্র আল কুরআনের তাফসিরকারক অর্থাৎ মুফাসসিরে কুরআন হজরত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানি। তার বক্তব্যের কোন জায়গায় কতটুকু সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং কোথায় কোথায় 

অনন্যসাধারণ চমৎকারিত্ব রয়েছে তা যেমন লক্ষ করেছি তেমনি আরবি উচ্চারণের ভালো-মন্দের দিকেও খেয়াল করেছি। আরবি ব্যাকরণ কিংবা হাদিসের ব্যাখ্যা অথবা তাসাউফের আলোচনায় কেউ কেউ জনাব সাঈদীর পাণ্ডিত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন কিন্তু সামগ্রিকভাবে ইসলামের খেদমতে তার ধারে কাছে দাঁড়াতে পারেন এমন আলেম বাংলাদেশে একজনও নেই।
সাঈদীর পাশে কোনো আলেম দাঁড়াতে পারবেন নাÑ এত বড় কথা আমি কিভাবে বললাম? এ ব্যাপারে বিস্তারিত বললেই সম্মানীত পাঠক বিষয়টি স্পষ্ট বুঝতে পারবেন এবং সাথে সাথে এ-ও বুঝতে পারবেনÑ কেন আমার মতো লাখ লাখ মানুষ ভিন্ন ধারার রাজনীতির ধারকবাহক হওয়ার পরও জনাব সাঈদীকে পছন্দ করেন। পাক ভারত উপমহাদেশের ইসলাম ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা, ধ্যানধারণা তাবৎ দুনিয়া থেকে আলাদা। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের মুসলমানগণের একটি বিরাট অংশ বিভিন্ন পীর, দরবেশ, আওলিয়া কিংবা মাজারকেন্দ্রিক ঐক্য গড়ে তুলে ধর্মকর্ম পালন করে থাকে। এসব পীর-ফকির-দরবেশ-দরগা ও মাজারে ফিবছর ভক্তবৃন্দ জমায়েত হয়ে নিজ নিজ রীতি অনুযায়ী নামাজ, কালাম, জিকির, ফিকির, নাচ-গান ও খানাপিনা করে থাকেন। কেউ এই জমায়েতকে বলেনÑ ইসালে সওয়াব, কেউ বলেন ওরশ মোবারক আবার কেউ কেউ বলেন তাবলিগ বা বিশ্ব জাকের সমাবেশ। এসব অনুষ্ঠান দুই-তিন দিন ধরে হয়। অনুষ্ঠানের আশেপাশে বিরাট মেলাও বসে যায়। ধর্মকর্মের পাশাপাশি মানুষ দুনিয়াদারির কর্মকাণ্ডও করে থাকেন। পীরেরা কিংবা দরগার খাদেমরা সবসময় ভক্তকুলের কাছ থেকে নজরানা গ্রহণ করেন, যা তাদের সারা বছরের জীবন-জীবিকার একমাত্র সংস্থান বলে গণ্য হয়। আমার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে ছোট-বড় ১০-১২ জন দরবারভিত্তিক পীর-মোর্শেদ দেখে আসছি। তাদের মধ্যে আকার আকৃতি ও ভক্তকুলের সংখ্যাধিক্যে আটরশি ও চন্দ্রপাড়ার পীর সাহেবদের নামডাক দেশে থাকলেও স্থানীয় হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতা অত ভালো না।

বড় হয়ে যখন পৃথিবীর অন্যান্য মুসিলম দেশে গেলাম তখন বাংলাদেশের মতো এরূপ কাণ্ডকারখানা কোথাও দেখলাম না। যা হোকÑ বহু পীরের কাছে গেলাম। মনে অনেক প্রশ্ন। অনেক কিছু জানতে চাই। কিন্তু পীরেরা কথা বলেন না। তাদের সামনে হাঁটুগেড়ে বসিÑ হাতজোড় করে থাকি এবং নজরানা দেই। পীরসাহেবরা জোরে জোরে ফুঁ দিয়ে দেন। পীর বাবার ফুঁ মাথায় নিয়ে বাইরে আসি কিন্তু অন্তর ঠাণ্ডা হয় না। বরং নজরানার টাকাগুলোর জন্য একধরনের মায়া মায়া ভাবের জন্য মনটাই খারাপ হয়ে যেত। এরপর আমি যেতাম বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে। বক্তা কান্নার ভান করে বিকট গলায় ভয়ঙ্কর আওয়াজ তুলে এমন সব মারিফাতি কিচ্ছাকাহিনী শুরু করত, যা শুনলে রুচিবান লোকের বমি বমি চলে আসত। চিন্তাশীল মানুষ হলে ইসলাম সম্পর্কেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলত। এ ঘটনার পর আমি ওই সব পীর-ফকিরের দরবার এবং গলাবাজ ওয়ায়েজিনদের মাহফিলে যাওয়া বন্ধ করে দেই। কুরআন-হাদিস পড়ার পাশাপাশি বিখ্যাত অলি আল্লাহগণের লিখিত বই পড়ার পর ধর্মকর্মে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করতে থাকি। অন্যান্য ধর্মের সাথে ইসলামের তুলনা এবং আমাদের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝার জন্য আরো কিছু বইপত্র পড়ে নিজের জ্ঞান ও বিশ্বাসকে ঝালাই করে নিলাম। কিন্তু সমস্যা হলোÑ ধর্মমতে সব কিছু করতে পারছিলাম না।

আমি প্রাণপণে চাইতাম বাবা-মাকে শ্রদ্ধা ও আমার জীবনের সব ভালো জিনিসগুলো দিয়ে তাদেরকে সেবা করে আল্লাহ পাকের নৈকট্য হাসিল করার জন্য। আমি এ-ও চাইতাম যে আমার বহু কষ্টের উপার্জনের একটি অংশ ভাই, বোন ও দরিদ্র আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলি করে দেই। গোপনে অসহায় লোকজনকে দানখয়রাত করি এবং জমিনে মাথা নিচু করে বিনয়সহকারে চলাফেলা করি। কিন্তু কিসের জন্য জানি নাÑ কৃপণতা আমাকে ভর করে বসল। বিনয়ের পরিবর্তে নিজের অর্থ, বিত্ত, জ্ঞান-গরিমা, চেহারা-সুরত ও বংশমর্যাদার জন্য রীতিমতো গর্ব বা অহঙ্কার করা শুরু করলাম। ফলে আমার আপনজনের অনেকের সাথেই আমার দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে গেল। ঠিক এই সময়ে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে আমি সাঈদী সাহেবের মাহফিলে গেলাম। তিনি সে দিন সুরা ফাতিহার তাফসির করছিলেন। তিনি বলছিলেনÑ রাহমান বা রহমান নামের মাহাত্ম্য সম্পর্কে। প্রথমে পুরো সূরাটি তেলাওয়াত করলেন। তারপর বর্ণনা করলেন সূরাটির গুরুত্ব। এরপর চলে গেলেন শাব্দিক অর্থের ব্যাখ্যায়। আলহামদু লিল্লাহ, রাব্বুল, আলামিনÑ এই তিনটি শব্দের মধ্যে রব শব্দের মর্মবাণী এবং মর্মার্থ শুনে আমি পাগল হওয়ার উপক্রম হলাম। এরপর তিনি যখন আর রহমান শব্দ নিয়ে তাফসির শুরু করলেন তখন সাঈদী সাহেবের গলার আওয়াজ ছাড়া আমি আর কিছু শুনতে কিংবা দেখতে পাচ্ছিলাম না। চোখ বন্ধ করে আমার মালিকের বিশালত্ব তার রব নামের ব্যাপকতা এবং রহমান নামের সার্থকতার আলোকে নিজের জীবনের সীমাহীন ব্যর্থতা আর অপূর্ণতার সন্ধান করছিলাম। মনের কালিমা দূর হয়ে সত্য ও শান্তির সুবাতাস কিসের যেন এক সুবাস দিয়ে আমায় মোহিত করে তুলেছিল। আমার চোখের পানির অবারিত ঝর্ণাধারা আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল আমার মালিকের দিকে। আমি সে দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞা করছিলামÑ বাকিটা জীবন কল্যাণ, ন্যায়নিষ্ঠতা আর আল্লাহর প্রেমে মত্ত হয়ে কাটিয়ে দেবো। মাহফিল শেষে আমি হোটেলে ফিরে এলাম এবং কয়েক দিন পর ঢাকায়। একটি ক্যাসেটের দোকানে গিয়ে কিনলামÑ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য, মেরাজের গুরুত্ব, স্বামী-স্ত্রীর মহব্বত, হুজুর সা:-এর জীবনী, সময়ের গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয়ে জনাব দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজের ক্যাসেট।

প্রতিদিন ফজরের নামাজ অন্তে আমি ক্যাসেটগুলো শুনতাম এবং আমার স্ত্রী ও সন্তানকে শোনাতাম। আমার শিশুসন্তানটি তখন মাত্র স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। ছেলে আমার ক্ষণে ক্ষণে জায়নামাজ নিয়ে বসে পড়ত এবং নিজের ছোটখাটো চাহিদার কথা আল্লাহর কাছে বলত। আর প্রার্থনা করতÑ হে আল্লাহ তুমি আমাকে এবং আমার বাবাকে ওলি আল্লাহ বানিয়ে দাও। দূরে দাঁড়িয়ে আমি ছেলের মুনাজাত শুনতাম এবং চোখের পানিতে বুক ভাসাতাম। এর কিছু দিন পর আব্বা এলেন আমার বাসায় বেড়াতে। আমি আব্বাকে শোনানোর জন্য সাঈদী সাহেবের পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্রান্ত ক্যাসেটটি ছেড়ে দিলাম। বাপবেটা একসাথে টেপ রেকর্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে শুনলাম। দু’জনই কাঁদছিলাম হয়তো আমার আব্বা স্মরণ করেছিলেন তার পিতা-মাতাকে আর আমি স্মরণ করছিলাম আমার জনক-জননীকে। আমি আব্বার দিকে অশ্রুভেজা চোখে তাকালাম মনে হলোÑ আহা! এই তো আমার জন্মদাতা! কত কষ্ট করে আমাকে লালন করেছেন। বড় করেছেন! আমি অবশ্যই পিতা-মাতার অবাধ্য হবো না। আমার মনের ইচ্ছা হলো আব্বাকে সেবা করার জন্য। ইচ্ছে হলো তাকে ভালোমন্দ কিছু খাওয়াই।

বাজারে গেলাম। আব্বার পছন্দের তরিতরকারি মাছ গোশত কিনলাম। স্ত্রীকে বললাম রান্না করো। আস্ত একটি মুরগি রোস্ট করো। আমার আব্বা সেটা খাবেন আর আমি বসে বসে দেখব। আরেক দিন মনে হলো আস্ত একটি ইলিশ মাছ কোপ্তা বানিয়ে আব্বার প্লেটে দেই। আমার স্ত্রীর সহযোগিতায় যখন কাজগুলো করলাম তখন আমার সাথে আব্বার কেমন যেন একটি রূহানি বা আত্মিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে গেল। আর তখন থেকেই মনে হতে থাকলÑ আমার ধনসম্পদ, শিক্ষা-দীক্ষা সব কিছুর মালিকই আমার পিতা। আমি এর পর থেকে কেবল আব্বার হুকুমের গোলাম হয়ে বেঁচে থাকার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পেলাম। এর কয়েক বছর পর আব্বা হঠাৎ স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে গেলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই রকমই ছিলেন। প্রায় ১২ বছর প্যারালাইজড পিতাকে সেবা করতে গিয়ে এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্ত হইনি। অফিসে আসার সময় সালাম করে আসতাম। আবার বাসায় ফিরে আব্বার মুখ না দেখে অন্য কারো দিকে তাকাতাম না। অসুস্থ আব্বা প্রায়ই বলতেন আমার ছেলে আমার হাজার তারার এক চাঁদ। আজো আব্বার কথা মনে হলে নিজের অজান্তে যেমন চোখের পানি চলে আসে তেমনি মনের মধ্যে বাজতে থাকে সাঈদী সাহেবের ওয়াজের মর্মবাণীগুলো।

মহান আল্লাহ পাক সব কিছু দেখেন এবং সব কিছু জানেন বলেই তার উপাধী সামিউন এবং বাছিরুন। নিশ্চয়ই তিনি বেখবর ননÑ ২০১৪ সালের বাংলাদেশ সম্পর্কে। সাঈদী-ভক্তরা হয়তো কোনো কিছুই জানেন না দুনিয়ার আদালত সম্পর্কে। কিন্তু আমার মতো লাখো-কোটি মানুষ যারা সাঈদী সাহেবের ওয়াজের মাধ্যমে আত্মার খোরাক পেয়ে জীবনধারা বদলাতে পেরেছেন এবং বিশ্বজাহানের রবের কাছে আত্মসমর্পণ করতে শিখেছেন তারা হয়তো ধরে নিয়েছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সাঈদী সাহেবের হয়তো ইমতেহান অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু ইমতেহানের সময় মানুষের জন্য বড় কর্তব্য হলোÑ আল্লাহ পাকের ফায়সালার প্রতি খউফ ও রিজ্জাসহকারে সন্তুষ্ট থাকা।

আমি আজকের লেখার প্রান্তসীমায় চলে এসেছি। সাঈদী সাহেব সম্পর্কে বলতে গেলে শুধু এইটুকু বলেই শুরু করা যায়Ñ তিনি মহান আল্লাহ পাকের অপূর্ব সৃষ্টি। ইসলামের ১৪ শ’ বছরের ইতিহাসে আমি এমন কোনো মুফাসসির কিংবা মুহাদ্দিসের নাম শুনিনি যার বক্তব্য শোনার জন্য লাখ লাখ মানুষ একটি মাহফিলে হাজির হয়ে অসাধারণ নীরবতা নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে কুরআন ও হাদিসের মর্মবাণী শুনেছেন। একবিংশ শতাব্দীর অস্থির সমাজে কোনো একক ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীর এমন কোনো ধর্মীয় নেতা নেই যার বক্তব্য জনাব সাঈদী সাহেবের চেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ শোনে এবং অনুসরণ করে। পবিত্র কুরআনকে যারা আল্লাহর গ্রন্থ বলে মানেন ও বিশ্বাস করেনÑ তারা জনাব সাঈদীর গত চল্লিশ বছরের কুরআনি খেদমতকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন! আমার মনে হয় কুরআনের মালিকই উত্তম ফায়সালাকারী। কিন্তু রবের ফায়সালা তো নতুন এবং অদ্ভুত নয়Ñ তার সব সিদ্ধান্তই পূর্বঘোষিত। আমরা যারা আল্লাহকে রেখে অন্যকে মান্য করি বা উসিলা করি তাদের সম্পর্কে কুরআন বলেছেÑ ‘ইয়াবতাগুনা রব্বিহিমুল উসিলা’Ñ অর্থাৎ তোমরা যাদেরকে উসিলা হিসেবে মান্য করো- তারাই তো বিশ্ব রবের উসিলা করে থাকে। আজ যারা জমিনের বুকে উদ্ধত আচরণ ও অহঙ্কার করে বেড়ায় এবং জমিনের অবিচার ও অনাচার করে বেড়ায় তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাকের সতর্কবাণী, যিনি দরাজ গলায় বাংলার আনাচে কানাচে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই ব্যক্তিটি যদি মজলুম হয়ে পড়েন তবে তার মালিক তাকে কিভাবে সান্ত্বনা দেবেন সে কথাও কুরআনে বলা আছে বহু জায়গায় বহুবার। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদেরÑ আমরা জেনেও না-জানার ভান করি কিংবা দেখেও না-দেখার ভান করি। ফলে সবশেষে আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন ফায়সালা এসে পড়ে তখন না পালাবার কোনো পথ খুঁজে পাইÑ না ভাগবার কোনো রাস্তার সন্ধান লাভ করতে পারি!

Monday, April 21, 2014

Defence Statement: Following the Conclusion of the Appeal Proceedings in the Case of the Chief Prosecutor v. Allama Maulana Delwar Hossain #Sayedee 




On 28 February 2013 the Bangladesh International Crimes Tribunal (“Tribunal”) convicted Maulana Allama Delwar Hossain Sayedee of eight charges of crimes against humanity and imposed a sentence of death by hanging by the neck under for two charges. Like all the cases before the Tribunal, the trial and subsequent judgment were internationally condemned due to the established and widely reported levels of judicial and prosecutorial misconduct and persistent intervention by the Government of Bangladesh to ensure convictions. The Defence argued on appeal that the Tribunal had erred as a matter of law and fact in reaching its judgment and those errors were so fundamental that the only safe conclusion was a complete reversal on appeal. The Defence argued in its appeal that the Tribunal’s findings were so gravely unreasonable that the judgment must be overturned and his conviction be set aside.

It is important to note that the Tribunal stated in its convicting judgment that “Justice in the future cannot be achieved unless injustice of the past is addressed.” This statement is quite right. However, the Tribunal failed to set out the entire quote by the author, J. Peter Pham, in his paper on transitional justice in Africa “Legitimacy, Justice and the Future of Africa”, published in Human Rights and Human Welfare Vol. 5 (2005). 


The quotation is as follows:


“Nonetheless it is clear that the road to a future where the state is not only respectful of its citizens’ basic freedoms and rights and capable of providing them not only security against internal and external threats, but also minimal economic and social entitlements – and, consequently, is accepted by them as legitimate – lies through the past. Justice in the future cannot be achieved unless the injustice of the past…is addressed.”


In its appeal brief, the defence recalled the words of US Chief Prosecutor Robert H. Jackson in his opening address on 20 November 1945 at Nuremberg:
“[…]it [is] hard to distinguish between the demand for a just and measured retribution, and the unthinking cry for vengeance which arises from the anguish of war. It is our task, so far as humanly possible, to draw the line between the two. We must never forget that the record on which we judge these defendants today is the record on which history will judge us tomorrow. To pass these defendants a poisoned chalice is to put it to our own lips as well. We must summon such detachment and intellectual integrity to our task that this Trial will commend itself to posterity as fulfilling humanity’s aspirations to do justice.”

For the past few months the appeal has been heard before the Appellate Division of the Supreme Court of Bangladesh. The Supreme Court, the highest judicial authority in Bangladesh, was called to rule on a number of contested issues. In particular, the Tribunal, in one of the two charges upon which Sayedee was sentenced to death, found him guilty of abducting and killing Ibrahim Kutti in Parerhat on 8 May 1971.

The Defence appealed Charge 8 on the grounds that the Tribunal failed to consider an important piece of exculpatory evidence, tendered by the Defence during trial, that lends strong support to Sayedee’s contention that he did not commit the crime alleged. This contention is supported by evidence that was disregarded by both the Tribunal and the Supreme Court. This evidence is a certified copy of the initial complaint lodged by Momtaz Begum, the widow of the victim, Ibrahim Kutti, and a certified copy of the charge sheet. This demonstrates that she lodged a petition of complaint before the relevant court in Pirojpur on 8 March 1972. The complaint, in which it is alleged that soldiers of the Pakistani Army and twelve named individuals who were cooperating with the army were responsible for the murder of Ibrahim Kutti, was filed with the Pirojpur Police Station on 16 July 1972. There was even evidence adduced that the Pirojpur police at the time recorded the same in its records as Case No. 9 and on 1 July 1972, it is apparent that the police sent the file to the Court in Pirojpur where it was entered into the court records. Those records were also entered as evidence during the trial.

In the original complaint, Ms. Begum described the incident of killing of her husband Ibrahim Kutti in considerable detail. Not once is Sayedee mentioned and the timeline of the crime according to her complaint is five months later than that alleged by the Prosecution during Sayedee’s trial. While the Prosecution produced live witnesses to prove its case, it is revealing that, despite reports that Ms. Begum is still alive, she was not called as a prosecution witness. It is also critical to recall that there is a substantial time difference between the version of events contained in the initial complaint filed by Ibrahim Kutti’s widow and the case as presented by the prosecution at trial.

The Supreme Court issued an order rejecting the defence application to call for and look into the record of the case filed by Ms. Begum. Insight into the casefile would have undoubtedly demonstrated conclusively that Sayedee had no involvement in the murder of Ibrahim Kutti. It is established practice that the record of the subordinate courts are inspected by the Superior Courts where there are conflicting claims by the parties. The fact that the Appellate Division of the Supreme Court has departed from this time honoured practice regrettably speaks volume.

This is yet another example in a large catalogue that demonstrates the nature of what independent observers have termed a miscarriage of justice. The Tribunal was provided with evidence that clearly exculpates Sayedee from a charge with which he has now been sentenced to death. At the very least, the mere existence of this evidence (discounting the prosecution’s unsubstantiated accusations that they are forged copies concocted by the Defence) casts doubt on the Tribunal’s conclusion that Mr. Sayedee is responsible for the murder of Ibrahim Kutti. It is deeply regrettable that the Appellate Division of the Supreme Court has refused to enquire further.

The second issue concerns the Defence request to admit evidence of a video interview of the witness Shukharanjan Bali and other documents relating to his well-documented abduction from the Tribunal premises. It will be recalled that Shukharanjan Bali was to be called as a prosecution witness to testify firstly that his brother, Bisha Bali, had been killed by persons other than Sayedee and secondly that members of the Investigative Agency and Prosecution had put forward a false statement thereby perverting course of justice. On 5 November 2012 when Shukharanjan Bali was due to give evidence for the Defence members of the Bangladesh law enforcement agencies abducted him on the grounds of the Tribunal. He was held in custody for several weeks and repeatedly tortured and then thrown over the border into India where he remains to this day. Both the Tribunal and the Supreme Court refused to hear evidence concerning this event that clearly demonstrates the case against Sayedee is fundamentally flawed and that members of the Government have conspired to pervert the course of justice.

It is universally accepted in both national and international law that it is the duty, in any criminal case, of the Prosecutor to not only disclose but actively investigate whether there is any evidence which undermines the prosecution case or assists the Defence case. It has been repeatedly argued that the Prosecutors appearing before the Tribunal, and now the Supreme Court, are incapable of discharging their duties professional and independently in circumstances where they, rather than investigate legitimate lines of inquiry that undermines their case, actively attempt to conceal any exculpatory material. It is unfortunately a practice reflecting what has been the norm during these trials, that with such important evidence presented to the judges at the Tribunal in a case where the accused is on trial for his life, the judges have dismissed these concerns as unworthy even of consideration. Whilst there have been serious criticisms leveled at the Judges and Prosecutors at the Tribunal, one would have expected the Supreme Court Justices to demonstrate a greater desire to inquire into the truth.

While arguably no longer surprising, it remains deeply disturbing, despite the Tribunal being repeatedly exposed as inherently flawed and the accused in each of the trials before it denied any semblance of a fair trial, that such matters are still coming to light. In short, the Government of Bangladesh has not only turned a blind eye to justice and a deaf ear to international condemnation in respect of these trials, it has been instrumental in ensuring that those on trial are convicted and executed. After the infamous change in legislation to allow the Supreme Court to impose a death sentence on appeal in the case of Abul Qader Mollah (who has since been executed), a move which attracted a surge of international outrage, and the unprecedented step of attempting to put on trial a political party under a fallacious doctrine of collective responsibility, one may not hold any high hopes of a just result being delivered by the Supreme Court in circumstances where it has been willfully ignorant of upholding fundamental fair trial rights and refuses to entertain any exculpatory evidence or consider any error by the Tribunal in failing to consider such principles.

Sadly, the lack of any meaningful or effective international intervention means that the trials will continue as they have since the start. As a consequence, the international community’s, and that of the Government of Bangladesh, oft-affirmed commitment to its obligations under international human rights treaties and customary international law is starting to sound increasingly hollow.

This is now an opportunity for the Appellate Division of the Supreme Court, the last bastion of protection, to disregard the pressure of the Government and deliver a just verdict thereby acquitting Sayedee and ordering a retrial before an independent and impartial tribunal of law.

Respectfully submitted

#Toby Cadman
Barrister-at-law
Foreign Counsel for Bangladesh Jamaat-e-Islami




Wednesday, April 9, 2014

পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার নাম, ফযিলত ও এখানে অবস্থানের আদবসমূহ

পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার নাম, ফযিলত ও এখানে অবস্থানের আদবসমূহ

ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী


পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারাকে বলা হয় দ্বিতীয় হারাম। মুসলিম হৃদয়ে এ নগরীটির প্রতি রয়েছে অপরিসীম শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও মর্যাদা। কেননা এটি ছিল প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতভূমি। তিনি তাঁর জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শেষ দশ বছর এ নগরীতেই কাটিয়েছেন। অহীর বৃহত্তর অংশ এখানেই তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়। এ নগরীকে কেন্দ্র করেই তিনি আল্লাহর সাহায্যে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। বস্তুত আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নগরীকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করে অনেক ফযিলত, মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে একে অভিষিক্ত করেছেন।

পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার নাম
মদীনাকে অনেকগুলো নামে অভিহিত করা হয়েছে, যা তার ফযিলত ও মর্যাদার প্রমাণ বহন করছে। কেননা একই জিনিসের অনেক নাম সে জিনিসের মর্যাদা ও গুরুত্বের প্রমাণবাহী। ঐতিহাসিকগণ এ নগরীর বহু নাম উল্লেখ করেছেন। ‘আল্লামা সামহুদী’ এর ৯৪টি নাম উল্লেখ করেছেন।

তন্মধ্যে ‘মদীনা’ নামটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, যা আল-কুরআনে চার বার এসেছ। [সূরা আত্-তাওবাহ: ১০১, ১২০, সূরা আল আহযাব: ৬০, সূরা আল-মুনাফেকুন: ৮] আর হাদীসে এ নামটি অসংখ্যবার এসেছে।

মদীনার আরেকটি নাম ‘ত্বাবাহ’। ইমাম মুসলিম জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى سَمَّى الْمَدِينَةَ طَابَة»
‘‘আল্লাহ তা’য়ালা এ মদীনাকে ‘ত্বাবাহ’ নামে নামকরণ করেছেন।’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪২৩]

এ শহরের অন্যতম আরেকটি নাম হল ‘ত্বাইবাহ’ বা ‘ত্বাইয়েবাহ’। ইমাম মুসলিমের আরেকটি বর্ণনা এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَة»
‘‘এ নগরী হল ত্বাইবাহ, ত্বাইবাহ, ত্বাইবাহ’’। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৭৩]

ত্বাবাহ ও ত্বাইবাহ কিংবা ত্বাইয়েবাহ শব্দগুলোর অর্থ হল পবিত্র বা উত্তম।

আরো যে সব নামে মদীনাকে অভিহিত করা হয় তম্মধ্যে রয়েছে ‘আদ-দার’, ‘আল-হাবীবা’, ‘দারুল হিজরাহ’, ‘দারুল ফাতহ’ ইত্যাদি।

আর জাহেলী যুগে মদীনার নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নামে এ শহরটিকে অভিহিত করতে অপছন্দ করেছেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«أُمِرْتُ بِقَرْيَةٍ تَأْكُلُ الْقُرَى يَقُولُونَ يَثْرِبُ وَهْيَ الْمَدِينَة»
‘‘আমাকে এমন এক জনপদে হিজরত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যা অন্য সব জনপদকে গ্রাস করবে। লোকজন একে ইয়াসরিব বলে। অথচ এটি হল মদীনা’’। [সহীহ বুখারী - ১৮৭১ ও সহীহ মুসলিম-৩৪১৯]

মদীনার ফযিলত ও মর্যাদা
1. রাসূলের প্রিয় নগরী:এ নগরী যাতে অন্য সকলেরও প্রিয় হয়, সেজন্য তিনি আল্লাহর কাছে দো‘আ করেছিলেন,

«اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ ، أَوْ أَشَد»
‘‘হে আল্লাহ! তুমি মদীনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও, যেমনি ভাবে প্রিয় করেছ মক্কাকে, বরং তার চেয়েও বেশী প্রিয় কর।’’ [সহীহ বুখারী: ১৮৮৯, সহীহ মুসলিম: ৩৪০৮]

2. রাসূলের শেষ জীবনের স্থায়ী নিবাস:এ নগরীতেই তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু অতিবাহিত করেছেন। হেদায়াতের আলো নিয়ে এর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন মানুষকে সত্যের দিশা দেয়ার জন্য। এর প্রতিটি ধুলিকণা সাক্ষ্য দিবে যে, তিনি মানুষকে এক আল্লাহর দিকে ডেকেছেন, একমাত্র সত্যধর্ম ইসলামের দিকে ডেকেছেন, ইহ ও পরকালীন মুক্তির দিকে ডেকেছেন।

3. এ নগরীর সবকিছুতে বরকত দেয়ার জন্য দো‘আ:নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে মদীনার সবকিছুতে বরকত দেয়ার জন্য নিম্নবর্ণিত দো‘আটি করেন:

«اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِى ثَمَرِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِى مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِى صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِى مُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّى عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَإِنِّى أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَه»
‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ফল-ফলাদিতে বরকত দাও। আমাদের এ মদীনায় বরকত দাও। আমাদের আহার্য্য, শস্য ও খাদ্য-দ্রব্যে বরকত দাও। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইবরাহীম তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু ও তোমার নবী। আর আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি মক্কা নগরীর বরকতের জন্য তোমার কাছে দো‘আ করেছিলেন। মক্কার জন্য যে পরিমাণ দো‘আ তিনি তোমার কাছে করেছিলেন, মদীনার জন্য সে পরিমাণ এবং তদনুরূপ আরেকগুণ বরকতের দো‘আ আমি তোমার কাছে করছি।’’ [সহীহ মুসলিম: ৩৪০০]

অন্য বর্ণনায় এরকম দো‘আ এসেছে,

«اللَّهُمَّ اجْعَلْ بِالْمَدِينَةِ ضِعْفَىْ مَا بِمَكَّةَ مِنَ الْبَرَكَة»
‘‘হে আল্লাহ! মক্কায় যতটুকু বরকত রয়েছে, মদীনায় তার দ্বিগুণ বরকত দাও।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৩৯২]

4. মদীনাকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা:হারাম শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে নিষিদ্ধ এবং আরেকটি পবিত্র। দু’টো অর্থই এ নগরীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

«الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْر»
‘‘মদীনার ‌‘আইর ও সওর পর্বতের মাঝখানের স্থানটুকু হারাম’’। [সহীহ মুসলিম: ৩৩৯৩]

«إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَإِنِّى حَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا لاَ يُقْطَعُ عِضَاهُهَا وَلاَ يُصَادُ صَيْدُهَا»
‘‘ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কাকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করেছিলেন, আর আমি মদীনাকে তথা এর প্রস্তরময় দু’ভূমির মাঝখানের অংশকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করছি- এর বৃক্ষসমূহ কাটা যাবে না এবং এর প্রাণী শিকার করা যাবে না।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৩৮৩]

ফেরেশতাদের প্রহরায় মদীনাকে মহামারী ও দাজ্জাল থেকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা:

আল্লাহ তা’আলা মদীনার প্রবেশদ্বারসমূহে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে প্রহরী নিযুক্ত করেছেন, যারা এতে মহামারী ও দাজ্জালের প্রবেশকে প্রতিহত করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ ، وَلاَ الدَّجَّالُ».
‘‘মদীনার পথে-প্রান্তরে রয়েছে (প্রহরী) ফেরেশতাগণ, (তাই) এখানে মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।’’ [সহীহ বুখারী - ১৮৮০, ৫৭৩১ ও সহীহ মুসলিম - ৩৩৩৭]

6. মদীনায় বসবাসের আলাদা গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে:মদীনায় বসবাসের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি এখানে বসবাসের ফলে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হলেও ধৈর্যধারণ করতে বলেছেন এবং মদীনা ছেড়ে যেতে অনুৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন,

«يَأْتِى عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَدْعُو الرَّجُلُ ابْنَ عَمِّهِ وَقَرِيبَهُ هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لاَ يَخْرُجُ مِنْهُمْ أَحَدٌ رَغْبَةً عَنْهَا إِلاَّ أَخْلَفَ اللَّهُ فِيهَا خَيْرًا مِنْهُ أَلاَ إِنَّ الْمَدِينَةَ كَالْكِيرِ تُخْرِجُ الْخَبِيثَ. لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَنْفِىَ الْمَدِينَةُ شِرَارَهَا كَمَا يَنْفِى الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ».
‘‘মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে, মদীনায় বসবাসরত ব্যক্তি তার চাচাত ভাই ও আত্মীয়কে বলবে চল স্বচ্ছলতার দিকে, চল স্বচ্ছলতার দিকে। অথচ মদীনাই তাদের জন্য উত্তম, যদি তারা জানত। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি, মদীনার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে যে ব্যক্তিই এখান থেকে বের হয়ে যায়, আল্লাহ তদস্থলে তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত করে দেন। সাবধান, মদীনা (কামারের) হাঁপরের ন্যায় নিকৃষ্ট ব্যক্তিকে বের করে দেবে। হাঁপর যেভাবে লোহার ময়লা বের করে দেয়, তেমনি, মদীনা ও তার মন্দ ব্যক্তিদের বের না করা পর্যন্ত ক্বিয়ামত হবেনা।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৪১৮]

হিজরী ৬৩ সালে মদীনায় লুট-পাটের যে ফিতনা হয়েছিল সে সময়ে আবু সাঈদ নামক জনৈক ব্যক্তি সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে মদীনা থেকে চলে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ চাইলো। আর অভিযোগ করল যে, মদীনায় পণ্যের দাম বেশী ও তার পরিবার বড়। মদীনার কষ্ট, বিপদ ও সমস্যায় তার পক্ষে ধৈর্যধারণ করা সম্ভব নয় বলে সে জানাল। তখন আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘‘তোমার ধ্বংস হোক! তোমাকে আমি (কি করে) সে আদেশ করব? অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি,

«لاَ يَصْبِرُ أَحَدٌ عَلَى لأْوَائِهَا فَيَمُوتَ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا».
‘যে ব্যক্তি মদীনার কষ্টে ধৈর্যধারণ করে তথায় মৃত্যুবরণ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার জন্য শাফায়াত করব অথবা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেব, যদি সে মুসলিম হয়।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৪০৫]

7. মদীনার দু:খ-কষ্ট ও বালা-মুসিবতে ধৈর্যধারণের মর্যাদা:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لاَ يَصْبِرُ أَحَدٌ عَلَى لأْوَائِهَا فَيَمُوتَ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا».
‘‘যে ব্যক্তি মদীনার কষ্ট ও বালা-মুসিবতে ধৈর্যধারণ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেব কিংবা তার জন্য শাফায়াত করব।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৪০৫]

8. মদীনায় মৃত্যু হওয়ার মর্যাদা:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوتَ بِالمَدِينَةِ فَلْيَمُتْ بِهَا ، فَإِنِّي أَشْفَعُ لِمَنْ يَمُوتُ بِهَا».
‘‘যে ব্যক্তি মদীনায় মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম, সে যেন তা করে। কেননা যে তথায় মৃত্যুবরণ করবে, আমি তার জন্য শাফায়াত করব।’’ [সহীহ সূত্রে ইমাম আহমাদ: ৫৮১৮]

9. মদীনা ঈমানের স্থান:মদীনা দারুল ঈমান বা ঈমানের গৃহ। তাইতো এখান থেকেই ঈমানের আলো সারা বিশ্বে বিচ্ছুরিত হয়েছিল। পরিশেষে মানুষ যখন ঈমান হতে বিচ্যুত হতে থাকবে, তখন ঈমান তার গৃহে তথা মদীনার দিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«إِنَّ الإِيمَانَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْمَدِينَةِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ إِلَى جُحْرِهَا».
“ঈমান মদীনার দিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে’’। [সহীহ বুখারী - ১৮৭৬ ও মুসলিম - ৩৭২]

10. মদীনায় ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ার মর্যাদা:মদীনা ছিল প্রথম বিদ্যালয় যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের এমন এক প্রজন্মের তারবিয়াতের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, ইতিহাসে যাদের আর কোন জুড়ি মেলে না। তাইতো এখান থেকে বের হয়েছে অসংখ্য সৎ ও বিজ্ঞ আলেম, যারা স্বীয় ইলম ও তারবিয়াতের মাধ্যমে জগতকে আলোকিত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«يَضْرِبُونَ أَكْبَادَ الإِبِلِ يَطْلُبُونَ الْعِلْمَ فَلاَ يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَة»
‘‘মানুষ হন্যে হয়ে ইলম অনুসন্ধান করবে, তবে মদীনার আলেমের চেয়ে অধিক বিজ্ঞ কোন আলেম তারা খুঁজে পাবে না।’’ [নাসায়ী: ৪২৭৭ ও হাকেম: ৩০৭ সহীহ সূত্রে]

তিনি আরো বলেন,

«مَنْ جَاءَ مَسْجِدَنَا هَذَا يَتَعَلَّمُ خَيْرًا أَوْ يُعَلِّمُهُ فَهُوَ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ»
‘‘যে ব্যক্তি আমার মসজিদে শুধু এই জন্যেই আসে যে, সে কোন কল্যাণের দীক্ষা নেবে কিংবা অন্যদের শিক্ষা দেবে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতূল্য।’’[হাকিম: ৩০৯, বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী]

11. মদীনায় রয়েছে পবিত্র মাসজিদে নববী: স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে তৈরী এ মাসজিদের অসংখ্য ফযিলত রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ».
‘‘আমার এ মাসজিদে নামায আদায় (মক্কার) মাসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যে কোন মাসজিদে নামায আদায় অপেক্ষা এক হাজার গুণ উত্তম।’’ [সহীহ বুখারী: ১১৯০ ও সহীহ মুসলিম: ৩৪৪০]

মাসজিদে নববী হচ্ছে সেই তিন মাসজিদের একটি, যার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত হতে সওয়াবের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِى هَذَا وَمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ الأَقْصَى».
‘‘তিনটি মাসজিদ ছাড়া আর কোথাও (সাওয়াবের নিয়তে) সফর করা জায়েয নেই। এগুলো হল: (মক্কার) মাসজিদুল হারাম, আমার এই মাসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা।’’ [সহীহ বুখারী: ১১৮৯ ও সহীহ মুসলিম: ৩৪৫০]

আর এ মাসজিদ নববীতে ‘রাওদাতুম মিন রিয়াদুল জান্নাহ’ রয়েছে যার সম্পর্কে স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَا بَيْنَ مِنْبَرِى وَبَيْتِى رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ».
‘‘আমার মিম্বর ও ঘরের মাঝখানের অংশটুকু জান্নাতের বাগিচা সমূহের একটি বাগিচা।’’ [সহীহ বুখারী: ১১৯৫ ও সহীহ মুসলিম: ৩৩৫৬]

12. মদীনায় রয়েছে মাসজিদে কুবা:এ মাসজিদে নামায পড়ার ফযিলত সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ أَتَى مَسْجِدَ قُبَاءٍ ، فَصَلَّى فِيهِ صَلاَةً، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ عُمْرَةٍ».
‘‘যে ব্যক্তি নিজ ঘরে ত্বাহারাত তথা পবিত্রতা অর্জন করে মাসজিদে কুবায় গিয়ে কোনো নামায পড়ে, তার জন্য উমরার সমান সাওয়াব অর্জিত হবে।’’ [সহীহ সূত্রে আহমাদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ]

মদীনায় অবস্থানের আদবসমূহ
1. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুদওয়া ও আদর্শ হিসাবে সর্বান্তকরণে মেনে নেয়া:কেননা তিনিই মদীনাবাসী সবার মাঝে হেদায়াতের আলো বিতরণ করেছেন এবং তারা তাঁর হেদায়েত লাভে ধন্য হয়েছে। সুতরাং বর্তমানেও যারা মদীনায় অবস্থান করছে, স্থায়ীভাবে হোক কিংবা সাময়িক ভাবে, তাদের জন্যেও ওয়াজিব হচ্ছে তাঁকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করা, যাতে তারা তাঁর প্রচারিত হেদায়াতের দিশা লাভে ধন্য হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا ٢١ ﴾ [الاحزاب : ٢١]
‘‘রাসূলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের (সে লোকদের) জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে খুব বেশী স্মরণ করে।’’ [সূরা আল-আহযাব: ২১]

2. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত অনুসরণের ব্যাপারে সজাগ থাকা এবং সর্বপ্রকার বেদআ‘ত ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা:নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً».
‘‘যে ব্যক্তি মদীনায় কোন পাপ করে, অথবা পাপাচারী আশ্রয় দান করে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের লা’নত পড়বে। ক্বিয়ামতের দিন তার কাছ থেকে আল্লাহ কোন ইবাদাত ও দান গ্রহণ করবেন না।’’ [সহীহ বুখারী: ১৮৭০ ও সহীহ মুসলিম: ৩৩৮৯]

3. মদীনায় অবস্থানরত অপরাপর কোন ব্যক্তির উপর চড়াও না হওয়া, কারো জান-মাল ও ইজ্জতের উপর হামলা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা এবং কারো প্রতি মন্দ ইচ্ছা পোষণ না করা:এগুলো সবস্থানেই হারাম। তবে মদীনায় শক্তভাবে নিষিদ্ধ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَرَادَ أَهْلَ هَذِهِ الْبَلْدَةِ بِسُوءٍ - يَعْنِى الْمَدِينَةَ - أَذَابَهُ اللَّهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِى الْمَاءِ».
‘‘যে ব্যক্তি এ নগরীর অধিবাসীদের কোন ক্ষতি সাধন করতে চায়, আল্লাহ তাকে মিশিয়ে দেবেন (নিশ্চিহ্ন করে দিবেন) যেভাবে লবন পানির মধ্যে মিশে যায়’’। [সহীহ মুসলিম - ৩৪২৪]

4. পবিত্র মদীনায় অবস্থানকালে কোন প্রকার বালা-মুসীবত ও দু:খ-কষ্টের মুখোমুখি হলে ধৈর্যধারণ করা:এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী উল্লেখ করা হয়েছে।

ইবাদত, দো‘আ, ইস্তেগফার ইত্যাদিতে বেশী বেশী সম্পৃক্ত থাকা:
বিশেষ করে মাসজিদে নববীতে নামায জামায়াত সহকারে আদায় করা, মাঝে মাঝে মাসজিদে কুবায় নামায পড়া এবং বাকী‘ কবরস্থান ও উহুদের শহীদ সাহাবাদের কবরস্থান যিয়ারত করা উত্তম।

আল্লাহ আমাদেরকে পবিত্র মদীনার ফযিলত হৃদয়ঙ্গম করে সে অনুযায়ী বেশী বেশী উত্তম কাজ করার তওফীক দান করুন।

Tuesday, April 8, 2014

WHO: Ebola outbreak among 'most challenging' - Africa - Al Jazeera English

WHO: Ebola outbreak among 'most challenging' - Africa - Al Jazeera English







West Africa's Ebola outbreak is among the "most challenging" ever to strike since the disease emerged four decades ago, the WHO said, as the suspected death toll from the virus hit 111.
"This is one of the most challenging Ebola outbreaks we have ever faced," said Keiji Fukuda, assistant director-general of the World Health Organisation.
WHO said on Tuesday that it expected to have to confront an outbreak of the deadly virus Ebola in West Africa for the next two to four months, the Reuters news agency reported.
But the United Nations agency said it was not recommending any travel restrictions to Guinea, which has a total of 157 suspected and confirmed cases including 101 deaths, or Liberia which has 21 suspected and confirmed cases including 10 deaths.
"We fully expect to be engaged in this outbreak the next two to three to four months before we are comfortable that we are through it," Fukuda told a Geneva news briefing.
WHO medical officer Stephane Hugonnet, just back from Guinea, said: "In Guinea Forestiere, the outbreak is not over, this is the epicentre. As long as it is not over there, there will be cases exported to the rest of the country."
Some 50 foreign experts have been deployed to help with infection control measures at hospitals and to trace 600 known contacts of infected patients, he said.
Most new cases were linked to known transmission chains, which he said was "reassuring".